করোনাভাইরাস কী?

করোনাভাইরাস এমন একটি সংক্রামক ভাইরাস যা এর আগে কখনও মানুষের মধ্যে ছড়ায়নি। ভাইরাসটির আরেক নাম ২০১৯-এনসিওভি। এটিও এক ধরনের করোনা ভাইরাস। এই ভাইরাসের অনেক রকম প্রজাতি আছে, কিন্তু এর মধ্যে ৭টি মানুষের দেহে সংক্রমিত হতে পারে।

বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, ভাইরাসটি হয়তো মানুষের দেহকোষের ভেতরে ইতোমধ্যেই ‘মিউটেট করছে’ অর্থাৎ গঠন পরিবর্তন করে নতুন রূপ

নিচ্ছে এবং সংখ্যাবৃদ্ধি করছে। যার ফলে এটি আরও বেশি বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।

করোনাভাইরাসের লক্ষণ।

১, শ্বাস নিতে কষ্ট হওয়া

২, জ্বর

৩, কাশি

৪, গলাব্যথা

৫, অরগ্যান ফেইলিওর বা দেহের বিভিন্ন প্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে যাওয়া

৬, নিউমোনিয়া

৭, শরীর ব্যাথা

৮, বমি, ডায়রিয়া ইত্যাদি

বিজ্ঞানীদের মতে, ভাইরাসটি শরীরে প্রবেশ করার পর সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিতে প্রায় ১৪ দিন সময় লাগতে পারে। প্রথম লক্ষণ হচ্ছে জ্বর। তারপর দেখা দেয় শুকনো কাশি। এর এক সপ্তাহের মধ্যে দেখা দেয় শ্বাসকষ্ট।

তাই শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে এবং বিদেশ ফেরত কারো সংস্পর্শে এসে থাকলে সঙ্গে উপরের লক্ষণগুলো দেখা দিলে অবশ্যই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে।

এছাড়াও করোনা যারা বেশি ঝুকিতে।

১. বয়স্ক ব্যক্তিরা।

২. যাদের বয়স ৫০ এর উপরে সঙ্গে এমন রোগ (হৃদরোগ, ডায়াবেটিস, শ্বাসকষ্ট বা উচ্চ রক্তচাপ) রয়েছে।

৩. গর্ভধারিনী নারী এ ভাইরাসে আক্রান্ত হলে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। পুরো পৃথিবীতে এ ভাইরাসে শিশুদের আক্রান্তের পরিমাণ হাতেগোনা তবে আক্রান্ত হবার সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে কমবয়সীরাও আক্রান্ত হচ্ছেন।

করোনা ছড়ানোর কিছু মাধ্যম

১, বাতাসের মাধ্যমে

২, সংক্রমিত ব্যক্তির ঘনিষ্ঠ সংস্পর্শে আসলে।

৩, আক্রান্ত ব্যক্তির দূষিত জিনিসপত্র স্পর্শ করলে।

নিরাপদ থাকতে যা করবেন

১. রক্ষার একমাত্র উপায় হলো, যারা ইতিমধ্যেই আক্রান্ত হয়েছেন বা এ ভাইরাস বহন করছেন- তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলা।

২. বাসায় অবস্থান করা এবং প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়া। বাইরে গেলে যেকোন অপ্রজনীয় জায়গায় স্পর্শ এড়িয়ে চলতে চেষ্টা করা। আর সম্ভব হলে দুই হাতে একবার ব্যবহার করা যায় এমন গ্লাভস ব্যবহার করা। সঙ্গে ভিড় এলাকাগুলো চলাচলের ক্ষেত্রে পরিহার করা।

৩. বার বার বিশ থেকে ত্রিশ সেকেন্ড ধরে ভাল করে সাবান দিয়ে হাত পরিস্কার করতে হবে। বিশেষ করে হাত অপরিস্কার হলে অথবা বাসার বাইরে থেকে বাসায় ফিরে। সুযোগ থাকলে মোবাইল বা ল্যাপটোপের মাউস, কিবোর্ড ব্যবহার করলে খাবার কিছু হাতে নেবার আগেও হাত ধোয়ার চেষ্টা করা।

৪, হাত দিয়ে নাক-মুখ, চোখ স্পর্শ না করা।

৫, আপনি যদি অসুস্থ হয়ে থাকেন তাহলে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করুন। তবে এই মুহুর্তে কিছু গবেষণা বলছে অসুস্থ না হলেও কয়েকজন ব্যক্তির মাঝে অবস্থান করলে মাস্ক ব্যবহার করা উচিত।

৬,মাংস, শাক-সব্জি, ফল-মুল খুব ভালভাবে পরিষ্কার করে রান্না করা। ডিমের ক্ষেত্রে ভাল হয় সিদ্ধ করে খেতে পারলে। ৭, গৃহপালিত ও অন্যন্য পশু থেকে দূরে থাকতে পারেন।