সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি অনুযায়ী আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে।

আজ শুক্রবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ আবুল খায়ের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, ‘সরকার ঘোষিত সাধারণ ছুটি অনুযায়ী সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও আগামী ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।’

এর আগে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কোচিং সেন্টার ১৭ মার্চ থেকে ৩১ মার্চ পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছিল সরকার। এরপর ১ এপ্রিল থেকে শুরু হতে যাওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষাও স্থগিত করা হয়।

আর প্রথম দফায় ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত, দ্বিতীয় দফায় ১১ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছিল সরকার। তৃতীয় দফায় ১২ ও ১৩ এপ্রিল সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। আর পরদিন পয়লা বৈশাখের ছুটি। সর্বশেষ ১৫ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি বাড়াল সরকার।

আজ শুক্রবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘আগের ছুটির ধারাবাহিকতায় ১৫ ও ১৬ এপ্রিল এবং ১৯ থেকে ২৩ এপ্রিল সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হল। সাধারণ ছুটির সময় আগামী ১৭-১৮ এপ্রিল এবং ২৪-২৫ এপ্রিল সাপ্তাহিক ছুটি সংযুক্ত থাকবে।

শর্তসাপেক্ষে সাধারন ছুটি বাড়ল ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত

অবনতিশীল করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির মধ্যে চলমান সাধারণ ছুটি আরও ১১ দিন বাড়ানো হয়েছে। শর্তসাপেক্ষে ১৫ থেকে ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি থাকবে। শুক্রবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে ছুটি বাড়ানোর আদেশ জারি করা হয়েছে। করোনার কারণে সরকার প্রথমে ২৬ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ছুটি ঘোষণা করে। পরে তা দুই দফায় বাড়িয়ে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত করা হয়।

 

ছুটি বাড়ানোর প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দেশব্যাপী করোনাভাইরাস রোগ মোকাবিলা এবং এর ব্যাপক বিস্তার রোধকল্পে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২৪ মার্চ, ১ ও ৫ এপ্রিল প্রজ্ঞাপনে ঘোষিত সাধারণ ছুটি ও সাপ্তাহিক ছুটির ধারাবাহিকতায় ১৫ থেকে ১৬ এপ্রিল ও ১৯ থেকে ২৩ এপ্রিল পর্যন্ত সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সাধারণ ছুটির সঙ্গে ১৭ ও ১৮ এপ্রিল ও ২৪ ও ২৫ এপ্রিলের সাপ্তাহিক ছুটি যুক্ত হবে।

যেসব শর্ত মানতে হবে

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, এ ছুটি অন্যান্য সাধারণ ছুটির মতো বিবেচিত হবে না। ছুটিকালীন নিম্ন বর্ণিত নির্দেশনাবলি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে-

• করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রশমনে জনগণকে অবশ্যই ঘরে অবস্থান করতে হবে।
• অতীব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে বের না হওয়ার জন্য সকলকে অনুরোধ করা হলো।
• সন্ধ্যা ৬টার পর কেউ ঘরের বাইরে বের হতে পারবেন না। এই নির্দেশ অমান্য করলে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
• এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় চলাচল কঠোরভাবে সীমিত করা হলো।
• বিভাগ/জেলা/উপজেলা/ইউনিয়ন পর্যায়ে কর্মরত সব কর্মকর্তাকে দায়িত্ব পালনের লক্ষ্যে নিজ নিজ কর্মস্থলে অবস্থান করতে হবে।

জরুরি পরিষেবার (বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাস, ফায়ার সার্ভিস, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, টেলিফোন ও ইন্টারনেট ইত্যাদি) ক্ষেত্রে এ ব্যবস্থা প্রযোজ্য হবে না জানিয়ে প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, কৃষিপণ্য, সার, কীটনাশক, জ্বালানি, সংবাদপত্র, খাদ্য, শিল্প পণ্য, চিকিৎসা সরঞ্জামাদি, জরুরি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন এবং কাঁচাবাজার, খাবার, ওষুধের দোকান ও হাসপাতাল এ ছুটির আওতাবহির্ভূত থাকবে। জরুরি প্রয়োজনেও অফিস খোলা রাখা যাবে। প্রয়োজনে ওষুধ শিল্প, উৎপাদন ও রফতানিমুখী শিল্প কারখানা চালু রাখতে পারবে। মানুষের জীবন-জীবিকার স্বার্থে রিকশা-ভ্যানসহ যানবাহন, রেল, বাস পর্যায়ক্রমে চালু করা হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

এতে আরও বলা হয়, জনগণের প্রয়োজন বিবেচনায় ছুটিকালীন বাংলাদেশ ব্যাংক সীমিত আকারে ব্যাংকিং ব্যবস্থা চালু রাখার প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেবে।ছুটি ফের বাড়ায় করোনার কারণে দেশে টানা ৩১ দিন ছুটি থাকবে। সবশেষ শুক্রবার (১০ এপ্রিল) পর্যন্ত দেশে করোনাভাইরাসে নতুন করে আরও ৯৪ জন আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন। এতে দেশে ভাইরাসটিতে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪২৪ জনে। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে মারা গেছেন আরও ছয়জন। ফলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৭ জনে।