ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিট (আইসিইউ) থেকে বের করে আনা হয়েছে। তবে তিনি এখনো হাসপাতালে চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে আছেন।

গত রবিবার থেকে মি: জনসন লন্ডনের সেন্ট টমাস হাসপাতালে করোনাভাইরাস সংক্রমণের চিকিৎসা নিচ্ছেন। ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর ১০ নং ডাউনিং স্ট্রিট থেকে জানানো হয়েছে, ” বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তাকে আইসিইউ থেকে স্থানান্তর করে হাসপাতালের ওয়ার্ডে রাখা হয়েছে। তিনি সেখানে থেকে সুস্থ হয়ে উঠার প্রাথমিক পর্যায়ে চিকিৎসা নেবেন।”

১০ নং ডাউনিং স্ট্রিটের এখন মুখপাত্র জানিয়েছেন, “তার মনোবল ভীষণ ভালো।”

করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্ত হবার ১০ দিন পরে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীকে গত রোববার হাসপাতালে নেয়া হয়। এর পরদিন তাকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে স্থানান্তর করা হয়।

আইসিইউতে মি: জনসনকে স্বাভাবিক অক্সিজেন দেয়া হলেও তাকে ভেন্টিলেটরে রাখা হয়নি।

একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, মি: জনসনের শারীরিক অবস্থা উন্নতি হচ্ছে এবং তিনি ব্রিটেনের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা কর্মীদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

এদিকে মি: জনসনকে আইসিইউ থেকে বের করে আনার পর এক টুইট বার্তায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

মি: ট্রাম্প লিখেছেন, ” খুব ভালো খবর। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে আইসিইউ থেকে বের করে আনা হয়েছে। সুস্থ হয়ে ওঠো বরিস।”কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন আইসিইউতে রাত পার করলেন

এর আগে  কোভিড-১৯ আক্রান্ত ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন আইসিইউতে রাত পার করছিলেন

এদিকে ব্রিটেনের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ম্যাট হ্যানকক বলেন, প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে আইসিইউ থেকে বের করে আনা খুব ভালো খবর এবং তিনি উন্নতির দিকে রয়েছেন।

মি: জনসনকে আইসিইউ থেকে বের করে আনার বিষয়টিকে “ভালো খবর” হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ব্রিটেনের বিরোধী দল লেবার পার্টির নবনির্বাচিত নেতা।

ডাউনিং স্ট্রিট জানাচ্ছে, তাকে সেখানে দারুন পরিচর্যা দেয়া হয়েছে।

সোমবার সন্ধ্যায় তাকে হাসপাতালের আইসিইউতে নেয়া হয়।

রবিবার তাকে ভর্তি করা হয়েছিল সেন্ট থমাস হাসপাতালে।

বাকিংহাম প্যালেস সূত্র জানিয়েছে, রানী মি. জনসনের শরীরের ব্যাপারে নিয়মিত খবর রাখছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, ফরাসী প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রঁ-সহ বিশ্বনেতারা মি. জনসনের প্রতি সমবেদনা ব্যক্ত করেছেন।

সরকারের একজন মুখপাত্র জানান, মি. জনসন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডমিনিক রাবকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করতে বলেছেন।

করোনাভাইরাসের উপসর্গ কমার কোন লক্ষণ না দেখা দিলে রবিবার ৫৫-বছর বয়স্ক প্রধানমন্ত্রীকে লন্ডনের সেন্ট টমাস হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

বিবিসির রাজনৈতিক সংবাদদাতা ক্রিস মরিস জানাচ্ছেন, সোমবার বিকেলে মি. জনসনকে অক্সিজেন দেওয়া হয়। তারপর তাকে ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিউতে) নিয়ে যাওয়া হয়। তবে তাকে ভেন্টিলেটরে দেওয়া হয়নি বলে ক্রিস মরিস জানিয়েছেন।

দশদিন আগে মি. জনসন পজিটিভ শনাক্ত হবার পর থেকে ডাউনিং স্ট্রিটে আইসোলেশনে ছিলেন।

‘গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিবর্তন হয়েছে’

”আমাদের বলা হয়েছে তিনি সচেতন আছেন কিন্তু দুপুরের পরে তার অবস্থার অবনতি হয়,” বিবিসি রাজনৈতিক সম্পাদক লরা কুনসবার্গ জানিয়েছেন।

লরা কুনসবার্গ বলেন, গত ১৮ ঘণ্টা ধরে বলা হচ্ছিলো, প্রধানমন্ত্রী ‘নিয়ন্ত্রণে আছেন’ এবং তিনি ‘যোগাযোগ রাখছেন’। কিন্তু এখন সম্পূর্ণ ভিন্ন বার্তা দেয়া হচ্ছে।

”গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরিবর্তন হয়েছে, যার ফলে তিনি তার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে দায়িত্ব নেবার জন্য অনুরোধ করেছেন, যেখানে তার থাকার কথা,” লরা কুনসবার্গ বলেন।