করোনাভাইরাস পুরো বিশ্বব্যবস্থাকেই বদলে দিয়েছে। বিশ্বব্যাপী মৃতের সংখ্যা ১ লাখ ছাড়িয়ে গেছে। আর আক্রান্ত দেশ ও টেরিটরির সংখ্যা ২১০।

এ পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে বিশ্ব কত ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্ব আর কখনও এ ধরনের কোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়নি। কিন্তু এরপর কী? করোনা বিশ্বকে যেভাবে ঝাঁকুনি দিয়ে যাচ্ছে, পরবর্তী সময়ে কেমন হবে বিশ্বব্যবস্থা?

এ নিয়ে অনেক বিশিষ্টজন প্রবন্ধ লিখেছেন। হেনরি কিসিঞ্জারের মতো বয়োবৃদ্ধ কূটনীতিকও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালে একটি প্রবন্ধ লিখেছেন সম্প্রতি। তাতে তিনি বলেছেন, করোনাভাইরাস পরিস্থিতি নয়া বিশ্বব্যবস্থাকে একটি প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে।

তিনি দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী ইউরোপ পুনর্গঠনে যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে মার্শাল পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে এসেছিল, ঠিক সে ধরনের একটি পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে আসারও আহ্বান জানান।

তিনি তিনটি কাজ এ মুহূর্তে জরুরি বলে মনে করেন : ১. মহামারী থেকে বাঁচার জন্য বিশ্বব্যাপী একটি ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা গ্রহণ; ২. বিশ্ব অর্থনীতিকে বাঁচানো; ৩. ‘লিবারেল ওয়ার্ল্ড অর্ডার’কে সুরক্ষা দেয়া। কিসিঞ্জারের এই মূল্যায়নের সঙ্গে দ্বিমত পোষণের সুযোগ নেই। অক্সফাম বলছে, ২ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার ‘রেসকিউ প্যাকেজের’ কথা। সংস্থাটির মতে, উন্নয়নশীল দেশগুলোকে করোনাভাইরাস ৩০ বছর পিছিয়ে দিল।

এডিবির মতে, বিশ্ব অর্থনীতি থেকে ৪ ট্রিলিয়ন ডলার হারিয়ে যাবে। আর আইএমএফের পূর্বাভাস- বৈশ্বিক জিডিপি প্রবৃদ্ধির হারে নিম্নগতি লক্ষ করা যাবে ২০২০ সালে। সুতরাং পরিবর্তন যে আসবে, তা বলাই বাহুল্য।

করোনাভাইরাস অনেক সম্ভাবনার জন্ম দিয়েছে : এক. করোনাভাইরাসের রেশ ধরে বিশ্ব অর্থনীতিতে মন্দাভাব বিরাজ করবে। আইএমএফের ম্যানেজিং ডিরেক্টর ক্রিস্টালিনা গিওরগিয়েভা গত ২৭ মার্চ বলেছেন, বিশ্ব অর্থনীতি ইতোমধ্যে বড় ধরনের বিপর্যয়ের মধ্যে পড়ে গেছে। উঠতি অর্থনৈতিক শক্তির দেশগুলো বড় চাপে আছে।

বাজার হারানো, রফতানিতে শ্লথগতি, প্রবাসী কর্মীদের দেশে ফিরে আসা এবং কর্মের সংস্থান না করতে পারা- এসব কারণে ওই দেশগুলো একধরনের চাপে আছে। আইএমএফ-প্রধানের মতে, উঠতি অর্থনৈতিক শক্তির দেশগুলোর বিপর্যয় কাটিয়ে উঠতে দরকার ২.৫ ট্রিলিয়ন ডলার।

কিন্তু কোত্থেকে আসবে এ টাকা? ভারতের মতো দেশ করোনার ক্ষতি পুষিয়ে উঠতে ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি রুপি বরাদ্দ করেছে। এ অর্থ গরিব ও খেটে খাওয়া মানুষের কাজে ব্যবহার হবে। বিশ্ব অর্থনীতির পরিমাণ (২০১৯) ৮৮ হাজার বিলিয়ন ডলার।

করোনাভাইরাসের কারণেই এ অর্থনীতিতে এখন শ্লথগতি আসবে। অর্থের পরিমাণ বছর শেষে কমে যাবে। ২০১৯ সালে বিশ্ব জিডিপির প্রবৃদ্ধির পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ৯ ভাগ। ২০২০ সালে এ প্রবৃদ্ধি প্রাক্কলন করা হয়েছিল ৩ দশমিক ৩ ভাগ। কিন্তু এখন নিশ্চিত করেই বলা যায়, এ প্রবৃদ্ধি আরও এক ভাগ কমে যাবে।

দুই. সবচেয়ে বড় ক্ষতি হতে যাচ্ছে উন্নয়নশীল বিশ্বের। অর্থনীতিবিদরা বলেছেন, করোনাভাইরাসের ধাক্কা কাটিয়ে ওঠা এই দেশগুলোর পক্ষে সম্ভব হয়ে উঠবে না। স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার ব্যর্থতা, বেকার সমস্যা বেড়ে যাওয়া, রফতানি খাতে ধস উন্নয়নশীল দেশগুলোকে বড় সংকটের মধ্যে ফেলে দেবে।

বলা ভালো, বৈশ্বিক রফতানিতে উন্নয়নশীল দেশগুলোর অবস্থান এখন অনেক শক্তিশালী। বৈশ্বিক রফতানিতে ২০০০ সালে যেখানে এ দেশগুলোর অবস্থান ছিল শতকরা ২৯ দশমিক ৭ ভাগ, ২০১২ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৪১ ভাগে, আর ২০১৯ সালের সর্বশেষ পরিসংখ্যানে দেখা যায় এ অবস্থান শতকরা ৪৪ ভাগ। এতে এখন ধস নামবে।

উন্নয়নশীল দেশগুলো এখন তাদের বাজার হারাবে। বাংলাদেশের কথা যদি বলি, তাহলে বলতেই হবে দেশের অর্থনীতি রয়েছে ঝুঁকির মুখে। এ কথা স্বয়ং অর্থমন্ত্রীও স্বীকার করেছেন। বাংলাদেশের বৈদেশিক আয়ের প্রধানত উৎস দুটি : এক. রেমিটেন্স, দুই. গার্মেন্ট বা তৈরি পোশাক।

২০১৬-২০১৭ সালে বাংলাদেশে রেমিটেন্স এসেছে ১২৭৬৯ দশমিক ৪৫ মিলিয়ন ডলার। ২০১৭-২০১৮ সালে এর পরিমাণ ছিল ১০৭৬১ দশমিক ৬৯ মিলিয়ন ডলার। এখন পরিবর্তিত পরিস্থিতির কারণে এ রেমিটেন্স খাতে একটি ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। যেহেতু বৈদেশিক অর্থনীতিতে একটা মন্দাভাবের আশঙ্কা করা হচ্ছে, সেহেতু মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতেও এর প্রভাব পড়বে।

নির্মাণ শিল্পে শ্লথগতি আসবে, ফলে বেকার হয়ে পড়বে শত শত কর্মী, যার একটা অংশ সরবরাহ করা হয় বাংলাদেশ থেকে। যেহেতু বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের রোগী পাওয়ার কথা বিশ্ব মিডিয়ায় প্রকাশ পেয়েছে, সেহেতু মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবে না। বাংলাদেশের অপর একটি বৈদেশিক আয়ের উৎস তৈরি পোশাক।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপ হচ্ছে আমাদের বড় বাজার। এ খাতে ২০১৯ সালে (জানুয়ারি-ডিসেম্বর) বাংলাদেশের আয় ছিল ৩০ দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলার। ২০১৮ সালে ছিল ৩২ দশমিক ৯২ বিলিয়ন ডলার। এখন ওই সেক্টরে বড় ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। আড়াইশ’ কোটি ডলারের ক্রয় আদেশ বাতিল হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের ডিপার্টমেন্টাল স্টোরগুলো এখন ক্রেতাশূন্য। একই কথা প্রযোজ্য ইউরোপের প্রতিটি দেশে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের দেশগুলোর বড় বড় শহর এখন ‘লকডাউন’। যেখানে মানুষ জীবন-মৃত্যুর মাঝে বসবাস করছে, সেখানে তৈরি পোশাক কিনবে কে?

এ তো গেল বাংলাদেশের কথা। আফ্রিকায় রয়েছে খনিজসম্পদ, বিশেষ করে কপার ও জিংক। এর বড় বাজার যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে। এ বাজার এখন নেই। কোনো অর্ডার মিলছে না। মধ্যপ্রাচ্যের তেলের দাম পড়ে গেছে।

জানুয়ারিতে যে তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৬৫ ডলার, এখন ২০ ডলারে নেমে এসেছে। শতকরা আরও ২০ ভাগ দাম পড়ে যেতে পারে। ১০ ডলারে চলে আসতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন কেউ কেউ। ফলে এর একটি প্রতিক্রিয়া থাকবেই।

তিন. করোনাভাইরাসের কারণে অনেক দেশ ব্যর্থ রাষ্ট্র বা অকার্যকর রাষ্ট্রে পরিণত হবে। কেননা এসব রাষ্ট্র, বিশেষ করে আফ্রিকার রাষ্ট্রগুলো স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে পারবে না।

প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া যাবে না। করোনাভাইরাস মোকাবেলায় যে ধরনের প্রশিক্ষিত ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মী থাকা দরকার, তা তাদের নেই। ফলে প্রশাসনের ব্যর্থতা অনেক রাষ্ট্রকে ব্যর্থ রাষ্ট্রের দিকে নিয়ে যাবে।

চার. করোনাভাইরাস মোকাবেলায় রাষ্ট্রের ব্যর্থতাকে কেন্দ্র করে একধরনের অস্থিরতা তৈরি হবে। জন্ম হবে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার। সম্প্রতি কসোভোতে সরকারের পতন ঘটেছে। এটা একটা দৃষ্টান্ত। আগামী দিনগুলোয় এ ধরনের ঘটনা অন্যত্র আমরা আরও প্রত্যক্ষ করব।

পাঁচ. করোনাভাইরাসের কারণে বিশ্বায়ন যুগের অবসান হতে যাচ্ছে। বিশ্বায়নের কারণে বিশ্ব উন্মুক্ত হয়ে গিয়েছিল। এতে এখন অনেক বিধিনিষেধ আসবে। বিশ্ব আর উন্মুক্ত থাকবে না। যুক্তরাষ্ট্রের মতো অনেক দেশ বিদেশিদের তার দেশে প্রবেশ, বসবাস, চাকরি কিংবা চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করবে। এতে করে বিশ্ব প্রত্যক্ষ করবে বিশ্বায়ন-পরবর্তী যুগে নতুন এক বিশ্বব্যবস্থা।

ছয়. চীনকেন্দ্রিক নতুন এক বিশ্বায়নের জন্ম হচ্ছে। এটা ক্রমাগত স্পষ্ট হচ্ছে। উহানে ডিসেম্বরে (২০১৯) করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটলে চীন অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে তা নিয়ন্ত্রণ করতে পেরেছে বলেই মনে হয়। কেননা ভাইরাসটি চীনের অন্য কোনো শহরে ছড়িয়ে পড়েনি। পরিসংখ্যান বলছে, উহান থেকে বেইজিংয়ের দূরত্ব ১১৫২ কিমি., সাংহাইয়ের দূরত্ব ৮৩৯ কিমি.।

অন্যদিকে নিউইয়র্কের দূরত্ব ১৫ হাজার কিমি., ইতালির দূরত্ব ৮৬৯৫ কিমি., ইরানের ৫৬৬৭ কিমি.। করোনাভাইরাস বেইজিং কিংবা সাংহাইতে ছড়াল না, ছড়িয়ে পড়ল নিউইয়র্কসহ যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি স্টেটে। যুক্তরাষ্ট্র পৃথিবীর এক নম্বর অর্থনৈতিক শক্তি।

কিন্তু যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থ হল করোনাভাইরাস নিয়ন্ত্রণে রাখতে। নিউইয়র্ক পোস্ট আমাদের জানাচ্ছে (২৭ মার্চ), প্রতি ১৭ মিনিটে একজন করে মানুষ মারা যাচ্ছে নিউইয়র্কে। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত অনেকেও সেখানে মারা গেছেন। কী দুর্ভাগ্যজনক সংবাদ- সেখানে কবরস্থানে জায়গা নেই! তাই বড় বড় ফ্রিজ রাখা হয়েছে হাসপাতালগুলোর সম্মুখে, যেখানে মৃতদেহগুলো ফ্রিজ করে রাখা হচ্ছে।

এ সংক্রান্ত একটি ছবিও সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত হয়েছে। চিন্তা করা যায় যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের এক নম্বর অর্থনীতির দেশ হলেও দেশটি স্বাস্থ্য খাতকে কখনও গুরুত্ব দেয়নি।

সংবাদপত্রে একটি খবর বেরিয়েছে, গত জানুয়ারিতেই গোয়েন্দারা একটি রিপোর্ট দিয়েছিল যে, করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব ঘটতে পারে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ রিপোর্টটি উপেক্ষা করেছিলেন।

ওই সময় যদি ব্যাপক প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হতো, তাহলে এত মৃত্যু এড়ানো যেত। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বকে নেতৃত্ব দেয়ার দাবি করলেও নিজ জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেনি।

আরও কিছু তথ্য দিই। ২০০১ সালের পর থেকে এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধের পেছনে খরচ করেছে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের উপরে (৫০৫১৫০ কোটি ২৬ লাখ ৩৫ হাজার ৫৭৭ ডলার, সূত্র : Information Clearing House, 28 March)। নিউজ উইক ম্যাগাজিন গত ২৬ মার্চ একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

তাতে উল্লেখ করা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র এক বছর পারমাণবিক কর্মসূচিতে যে অর্থ ব্যয় করে, তা দিয়ে ৩ লাখ আইসিইউ বেড, ৩৫ হাজার ভেন্টিলেটর তৈরি করা সম্ভব এবং ৭৫ হাজার ডাক্তারের বেতন দেয়া যায়।

নিউজ উইক International Campaign to Abolish Nuclear Weapon নামক একটি সংস্থার উদ্ধৃতি দিয়ে এ তথ্যটি প্রকাশ করেছে। বলা ভালো, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জন্য ভেন্টিলেটর খুবই প্রয়োজন। কিন্তু দেখা গেল যুক্তরাষ্ট্রের হাসপাতালগুলোয় পর্যাপ্ত ভেন্টিলেটর নেই।

এক নম্বর শক্তি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের যেখানে অন্যান্য দেশকে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসা উচিত ছিল, সেখানে যুক্তরাষ্ট্র ব্যর্থ। এ ক্ষেত্রে এগিয়ে এসেছে চীন। news.com.au নামের একটি নিউজপোর্টাল থেকে জানা গেছে (২৯ মার্চ), চীন ইতোমধ্যে করোনায় আক্রান্ত দেশগুলোকে মাস্ক ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে।

গ্লাভস, সুরক্ষা ড্রেস দিয়েছে লাইবেরিয়াকে, এক লাখ টেস্ট কিট দিয়েছে ফিলিপাইন ও বাংলাদেশকে, চেক রিপাবলিক পেয়েছে মাস্কসহ সুরক্ষা ড্রেস। পশ্চিম ইউরোপ, পাকিস্তান, শ্রীলংকা, ইরান, ইরাক এবং বেশকিছু আফ্রিকার দেশও এই সহযোগিতা পেয়েছে।

ইতোমধ্যে চীন ঘুরে দাঁড়িয়েছে। তারা ইতোমধ্যে (২০ মার্চ) শতকরা ৮৫ ভাগ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে ফিরে এসেছে। ধারণা করছি, এপ্রিলের মধ্যেই শতকরা ১০০ ভাগে তারা উন্নীত হতে পারবে। ব্লুমবার্গ ইকোনমিকসের প্রতিবেদনে দেখা গেছে, ১৪ ফেব্রুয়ারি অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের পরিমাণ যেখানে ছিল শতকরা ৪০-৫০ ভাগ, সেখানে ২০ মার্চ তা শতকরা ৮৫ ভাগে উন্নীত হওয়া কম দক্ষতার পরিচায়ক নয় (ব্লুমবার্গ, ২৭ মার্চ)। তুলনামূলক বিচারে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতা চোখে লাগার মতো।

তবে করোনা সংকট চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে একধরনের পারস্পরিক নির্ভরশীলতার সম্পর্কের সম্ভাবনা তৈরি করতে পারে। কিন্তু ওয়াশিংটনের কট্টরপন্থীরা পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে এ সুযোগটি গ্রহণ করবে কিনা, সেটা একটা প্রশ্ন বটে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প কট্টরপন্থীদের চাপ উপেক্ষা করে চীনের দিকে হাত বাড়াবেন কি না, এ ব্যাপারেও সন্দেহ রয়েছে অনেকের।

জাতীয় নিরাপত্তার নতুন এক ধারণা এখন তৈরি হবে। অপ্রচলিত নিরাপত্তা বিশ্বকে কত বড় হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে, করোনাভাইরাস তার বড় প্রমাণ। প্রতিটি রাষ্ট্রই এখন অপ্রচলিত নিরাপত্তাকে বেশি গুরুত্ব দেবে। এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য খাত গুরুত্ব পাবে বেশি। করোনা মহামারী বিশ্বব্যবস্থার ধরনকেই বদলে দিয়েছে। একটি নয়া বিশ্বব্যবস্থা এখন বিকশিত হবে। তবে প্রশ্ন আছে অনেক।

কিসিঞ্জার যে ‘লিবারেল ওয়ার্ল্ড অর্ডারের’ কথা বলেছেন, তা কথার কথা হিসেবেই থেকে যেতে পারে। ট্রাম্প আরও বেশি কট্টরবাদী হয়ে উঠতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যসেবা স্মরণকালের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থার মধ্যে থাকলেও তিনি বিষয়টি খুব সিরিয়াসলি নিয়েছেন বলে মনে হয় না।

ক্ষমতা ধরে রাখা এবং নির্বাচনের (নভেম্বর) বৈতরণী পার হওয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ‘লিবারেল’ মতবাদের তিনি ‘মৃত্যু’ ঘটাতে পারেন। যেখানে তার দরকার ছিল স্বাস্থ্যসেবা পুনর্গঠনের, সেখানে সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী ২০ বিলিয়ন ডলার কংগ্রেসের কাছে চেয়েছে ইঙ্গ-প্যাসিফিক অঞ্চলে চীনের প্রভাব কমাতে (সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট, ৭ এপ্রিল)। ট্রাম্প যে সেনাবাহিনীর এ প্রস্তাব সমর্থন করবেন, তা বলাই বাহুল্য।

ইতিমধ্যে বেশকিছু দেশে ক্ষমতাসীনরা আরও কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠেছেন। ওয়াশিংটন পোস্টে (৩ এপ্রিল) হাঙ্গেরি, ফিলিপাইন, কম্বোডিয়াসহ কয়েকটি দেশের নাম উল্লেখ করা হয়েছে, যেখানে ক্ষমতাসীনরা আইনে পরিবর্তন এনে আরও কর্তৃত্ববাদী হয়ে উঠেছেন।

এর অর্থ, করোনাভাইরাস একটা আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে লিবারেল ডেমোক্রেসির ধারণার অপমৃত্যু ঘটাতে। সুতরাং করোনাভাইরাসের কারণে একটা পরিবর্তন আস