করোনাভাইরাসে স্পেন এখন মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয়েছে। এখন পর্যন্ত দেশটিতে আক্রান্তের সংখ্যা ১৫ লাখ ৭ হাজারেরও বেশি। এর মধ্যে মৃত্যু হয়েছে ১৫ হাজার ৮৪৩ জনের। আক্রান্তদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন মাত্র ৫৫ হাজার ৬৬৮ জন।

 

এদিকে করোনাভাইরাসের কারণে দেশটিতে গত এক মাসে জাতীয় আয় শতকরা ৬০ ভাগের নিচে নেমে এসেছে। অর্থনীতিবিদরা ধারণা করছেন বন্দীদশার প্রথম চার সপ্তাহে দেশটি জাতীয় অর্থনীতিতে লোকসান দেখছে প্রায় ৪৯ বিলিয়ন ইউরো। দেশটির শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুধু মার্চ মাসে দেশটিতে ৩ লাখ ২ হাজার মানুষ কর্মহীন হয়ে পড়েছে।

বর্তমানে দেশটিতে সর্বমোট বেকারত্বের সংখ্যা প্রায় ৩৫ লাখ, যা দেশটির মোট জনসংখ্যার ১৩.৭৮ শতাংশ। লকডাউন শেষ হওয়ার পর এই সংখ্যা আশংকাজনকভাবে বাড়বে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

ধারণা করা হচ্ছে দেশটি এযাবৎ কালের সবচেয়ে বড় অর্থনৈতিক মন্দার দিকে এগুচ্ছে। সর্বশেষ ২০০৮ পুরো ইউরোপ জুড়ে যখন অর্থনৈতিক মন্দা দেখা দিয়েছিল সেসময় ব্যাপকহারে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল পর্যটন শিল্পের জন্য প্রসিদ্ধ দেশটি। তাছাড়া টানা গৃহবন্দী থেকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে দেশটির জনসাধারণ।

দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সালবাদর ইলা এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, ‘জরুরী অবস্থা শিথিল হওয়ার পরে প্রথম পদক্ষেপগুলোর একটি হতে পারে মানুষজনকে বাইরে বের হয়ে একটু হাটাহাটি করার অনুমতি দেয়া। কিন্তু অবশ্যই তা কেবল শিশুদের নিয়ে কিংবা একা একা নির্দিষ্ট সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে এবং কঠোর নিয়ম-শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে।’

 

কেমন আছেন বাংলাদেশি প্রবাসীরা?

প্রায় ৩০ হাজার প্রবাসী বাংলাদেশির বসবাস স্পেনে। যাদের মধ্যে সিংহভাগ থাকেন রাজধানী মাদ্রিদ এবং পর্যটন শিল্পে সমৃদ্ধ কাতালোনিয়ায়।

চরম আতংকের মধ্যে দিন পার করছেন এখানকার প্রবাসী বাংলাদেশিরা, কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তাদের অধিকাংশ। বিশেষত অবৈধভাবে বসবাস করা প্রবাসীরা আছেন চরম বিপাকে। তাদের সহায়তার জন্য এগিয়ে এসেছে বিভিন্ন স্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশি সংগঠনগুলো। যাদের মধ্যে ‘ভালিয়ান্তে বাংলা’ এবং ‘বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন’ কাজ করছে রাজধানী মাদ্রিদে, এবং ‘হেল্পিং হেন্ডস’ নামে সদ্য প্রতিষ্ঠিত সংগঠনটি কাজ করছে বার্সেলোনায়। এছাড়া বাংলাদেশ দূতাবাসের মাধ্যমে বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে ১০ হাজার ইউরো বণ্টনের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।