চট্টগ্রামে সরকারি চাল আত্মসাতে জড়িত ফারুক ট্রেডিংয়ের মালিক ওমর ফারুক। শুধু নগরীতে নয়; তার নেতৃত্বাধীন সিন্ডিকেট পুরো চট্টগ্রাম বিভাগে সরকারি চাল আত্মসাতে জড়িত।

ডিও (ডিমান্ড অর্ডার) ব্যবসার নামে কোটি কোটি টাকার সরকারি চাল খোলাবাজারে বিক্রি করে থাকে এ সিন্ডিকেট। বুধবার থেকে পূর্ববর্তী এক সপ্তাহে এই সিন্ডিকেট বস্তা পাল্টে খোলাবাজারে অন্তত ২০ হাজার বস্তা চাল বিক্রি করে দিয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছে পুলিশ।

সর্বশেষ বুধবার ডবলমুরিং পুলিশ হাতেনাতে ২১ বস্তা সরকারি চাল ও ১৫শ’ পিস খাদ্য অধিদফতরের সিলমোহরযুক্ত খালি বস্তা, ৯ হাজার ২০০ পিস প্লাস্টিকের খালি বস্তা ও ৫০০ পিস চটের খালি বস্তা উদ্ধার করে। ঘটনাস্থল থেকে দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। তারা হচ্ছে- আরাফাত মোস্তাফা ও আবদুল আজিজ।

আরাফাত ফারুক ট্রেডিংয়ের কর্মচারী এবং আজিজ ফারুকের ব্যবসায়িক পার্টনার। এ ঘটনায় ডবলমুরিং থানার এসআই সুমিত বড়ুয়া বিশেষ ক্ষমতা আইনে একটি মামলা করেছেন। মামলায় ওমর ফারুকসহ তিনজনকে সুনির্দিষ্ট আসামি করা হয়েছে। যদিও এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন ওমর ফারুক।

তবে সরকারি চাল আত্মসাতের ঘটনায় ২০১৭ সালে ওমর ফারুককে একবার ডিবি পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। ব্যবসায়ী ও খাদ্য বিভাগের সঙ্গে জড়িত একাধিক কর্মকর্তা এসব তথ্য জানিয়েছেন।

‘শেখ হাসিনার নির্দেশ, ক্ষুধা হবে নিরুদ্দেশ’ লেখা সংবলিত খাদ্য বিভাগের বিশেষ ওএমএসের চাল ডিলার না হওয়া সত্ত্বেও কীভাবে ফারুকের হাতে গেল, সে বিষয়ে তদন্তে নেমেছে দুদক।

এ প্রসঙ্গে দুদকের প্রধান কার্যালয়ের গণসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য যুগান্তরকে বলেন, ‘যেসব সিন্ডিকেট ওএমএস ও ত্রাণের চাল নিয়ে নয়ছয় করছে, তাদের বিরুদ্ধে সারা দেশে দুদক মাঠপর্যায়ে তদন্ত শুরু করেছে। চট্টগ্রামেও আমরা তদন্ত শুরু করেছি।’

বুধবার নগরীর সাগরিকা এলাকার বিটাক মোড়ে অবস্থিত ফারুক ট্রেডিং নামে গুদামে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালায় ডবলমুরিং থানা পুলিশ। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে ২১ বস্তা সরকারি চাল ও ১৫০০ পিস খাদ্য অধিদফতরের সিলমোহরযুক্ত খালি বস্তা, ৯ হাজার ২০০ পিস প্লাস্টিকের খালি বস্তা ও ৫০০ পিস চটের খালি বস্তা উদ্ধার করা হয়।

পাহাড়তলী বাজারের একাধিক ব্যবসায়ী যুগান্তরকে জানান, ওমর ফারুক দীর্ঘদিন খাদ্য বিভাগের চাল নিয়ে চোরাকারবারিতে জড়িত। তার বাবার নাম সেলিম উল্লাহ। ফারুকের সিন্ডিকেটের সদস্যদের মধ্যে রয়েছে জনি সাহা, আজিজ, লিটনসহ অনেকে।

ওমর ফারুকের দুটি চালের গুদাম রয়েছে। একটি সাগরিকা এলাকার বিটাক মোড়ে ফারুক ট্রেডিং, অপরটি উত্তরবঙ্গে। এটির নাম উত্তরবঙ্গ চাল বিতান। এ দুটি গুদাম ব্যবহার করেই চলে সরকারি চাল আত্মসাৎ।

আবু তাহের নামে পাহাড়তলী বাজারের এক ব্যবসায়ী জানান, সরকারি খাদ্য সরবরাহে জেলা থেকে উপজেলা পর্যন্ত ওমর ফারুকের রয়েছে শক্তিশালী সিন্ডিকেট। সরকারি দলের প্রভাবশালী কিছু নেতা এই সিন্ডিকেটকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেন। উপজেলা পর্যায়ের সিন্ডিকেট সদস্যরা প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বরাদ্দকৃত ডিও কম মূল্যে কিনে নেন।

পরে এসব ডিও চলে আসে জেলা পর্যায়ের সিন্ডিকেট সদস্যদের হাতে। খাদ্য গুদাম থেকে ভালো মানের ও বেশি দামের চাল ছাড় করিয়ে নেয় ফারুক ও তার সিন্ডিকেট। এরপর সুবিধামতো এসব চাল নগরীর পাহাড়তলী ও চাক্তাইয়ের চালের আড়তগুলোতে বিক্রি করে। আবার সিন্ডিকেট সদস্যদের অনেকে পাহাড়তলী ও চাক্তাইয়ের চাল আড়তদার।

ডবলমুরিং জোনের সহকারী কমিশনার শ্রীমা চাকমা যুগান্তরকে বলেন, সরকারি চাল আত্মসাতের হোতা ওমর ফারুক পলাতক রয়েছে। তাকে গ্রেফতার করা গেলে সরকারি চাল, ত্রাণ ও বিশেষ ওএমএসের চাল আত্মসাতের অনেক অজানা তথ্য হয়তো বের হয়ে আসবে।