জাপানে করোনাভাইরাস মোকাবেলায় জারি করা জরুরি অবস্থাতেও ঘরে থাকছে না দেশটির নাগরিকেরা। শহরগুলো মোটেও লকডাউন হয়নি।

মেট্রোট্রেনগুলোতে আগের মতোই ভিড়। প্রতিদিনই অফিস যাচ্ছে চাকরিজীবীরা। রাতের বেলায় জরুরি অবস্থা কিছুটা মেনে চলছে জনগণ। কিন্তু দিন হলেই তাদের কোনোভাবে ঘরে আটকে রাখা যাচ্ছে না।

ফলে করোনা সংক্রমণও থামছে না। প্রতিদিনই হু হু করে বাড়ছে। জরুরি অবস্থা ঘোষণার পাঁচ দিন পর শনিবার এ খবর জানিয়েছে নিউইয়র্ক টাইমস।

করোনা প্রতিরোধ করতে গত সপ্তাহে মানুষজনকে ঘরে রাখতে সাতটি প্রদেশে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। জরুরি অবস্থার পর কিংবা আগের পার্থক্য খুঁজে পাচ্ছেন না জাপানিরা।

একই কথা জানিয়েছে প্রবাসী বাঙালিরাও। দিনের কর্মঘণ্টা কমানো হলেও যানবাহন, অফিস-আদালত, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চলছে আগের মতোই। ট্রেন স্টেশন, বাসস্ট্যান্ডে আগের চেয়ে কিছু যাত্রী কমলেও ভিড় কমেনি।

এ পরিস্থিতিতে শুক্রবার টোকিওর গভর্নর ইউরিকো কইকে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির রেস্তোরাঁ ও বারগুলোকে ভোর ৫টা থেকে রাত ৮ পর্যন্ত খোলা রাখতে অনুরোধ করেছেন। এ ছাড়া সন্ধ্যা ৭টার পর অ্যালকোহল বিক্রি বন্ধ করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

গত মঙ্গলবার জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার পর থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশনা মানার দায়িত্ব দিয়েছিলেন স্থানীয় গর্ভনরদের।

কিন্তু গত কয়েক দিনে দেশটির গণমাধ্যমে জরুরি অবস্থা না মানার কঠোর সমালোচনা এসেছে। মানুষজনকে গৃহমুখী করতে স্থানীয় প্রশাসন ব্যর্থ হচ্ছে বলে মনে করছেন অনেকে। কেবল ‘অনুরোধ’ করতে পারে সরকার।

বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশে জরুরি অবস্থায় মানুষজনকে ঘরে রাখতে আইন প্রয়োগে কঠোরতা থাকলেও জাপানের আইনে তেমনটা করতে পারে না সরকার। দেশের জনগণকে কেবল ‘অনুরোধ’ জানাতে পারবে স্থানীয় প্রশাসন।

২০২০ সালের মার্চের শুরুতে দেশটির সংসদে ৫২/১ ধারা অনুযায়ী ‘জরুরি অবস্থা জারি’ আইন পাস হলেও এই আইনটি তারও আগে ২০১২ সালে করা হয়েছিল।

২০০৯ সালের দিকে ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারীর অভিজ্ঞতা থেকে তিন ধরনের সংক্রামক রোগ রুখতে রাষ্ট্রীয় জরুরি অবস্থা জারির ওই আইনটির কথা আলোচনায় এসেছিল।