মুসল্লিদের ঘরে নামাজ পড়ার নির্দেশ দিয়ে সরকারের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মসজিদে শুধু ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং খাদেমরা নামাজ পড়তে পারবেন।

তাবলীগ জামাতের কার্যক্রমও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
ধর্ম প্রতিমন্ত্রী শেখ মো: আব্দুল্লাহ বলছিলেন, ইমাম, মুয়াজ্জিন এবং খাদেমদের মাধ্যমে জামাত করে মসজিদ চালু রাখা হচ্ছে। কিন্তু নির্দেশ অমান্য করে সাধারণ মুসল্লি কেউ মসজিদে গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

“মসজিদের ইমাম, খাদেমরা শুধু জামাতে নামাজ পড়বেন। কিন্তু বাইরে থেকে কেউ মসজিদে গিয়ে নামাজ পড়তে পারবেন না। সকলকে ঘরে বসেই নামাজ পড়তে হবে। এই নির্দেশ কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করা হবে। কেউ না মানলে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

ওয়াজ মাহফিলসহ সব ধর্মীয় জমায়েত আগেই নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। এর মাঝেও বাংলাদেশে তাবলীগ জামাতের দুই অংশই দেশের বিভিন্ন এলাকায় মসজিদে তাদের জমায়েত অব্যাহত রেখেছিল।
ঢাকার চকবাজার মসজিদের ইমাম এবং ‘জাতীয় ইমাম সমাজের’ সাধারণ সম্পাদক মিনহাজ উদ্দিন বলছিলেন, “শুরু থেকেই আমাদের কথা ছিল, মসজিদে জামাত বন্ধ না করা। এখন যেহেতু ইমাম, মুয়াজ্জিন আর খাদেমদের দিয়ে নামাজ হবে তার অর্থ হচ্ছে মসজিদ চালু থাকবে। একারণে মসজিদে মুসল্লি না আসার সিদ্ধান্তও বাস্তবায়ন সহজ হবে।”

এসব সিদ্ধান্ত অনেক দেরিতে নেয়া হলো বলে বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন।

তবে কর্মকর্তারা বলেছেন, ধর্ম মন্ত্রণালয় এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশন গত এক মাসের বেশি সময় ধরে ইমাম এবং আলেমসহ ধর্মীয় নেতাদের সাথে আলোচনা করে আসছিল। কিন্তু ভিন্ন ভিন্ন মত থাকায় এতদিন সিদ্ধান্ত নেয়া সম্ভব হয়নি।
প্রতিমন্ত্রী শেখ মো: আব্দুল্লাহ বলছিলেন, শেষ পর্যন্ত আলোচনায় সকলকে তারা এক জায়গায় আনতে পেরেছেন।

এটা একটা বড় সিদ্ধান্ত। এই সিদ্ধান্ত যে কোন একজনের পক্ষে নেয়া সম্ভব নয়। আগে কিন্তু আমরা সকল আলেমদের ঐক্যবদ্ধ করতে সফল হই নাই। আমরা আলেমদের সাথে আলোচনা করেছি। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে এই সিদ্ধান্ত নিতে চেয়েছিলাম। এখন সকলে বুঝতে পেরেছেন যে, আমরা সময় নষ্ট করেছি। এখন আর সময় নাই।”

কওমী মাদ্রাসা ভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম সরকারের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছে। সংগঠনের প্রধান আহমদ শফি এক বিবৃতিতে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকার পাঁচজন দশজন করে মসজিদে নামাজ পড়ার যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেটা শরিয়তসম্মত।