করোনাভাইরাসের সংক্রমনে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা দিন-দিন বাড়ছেই। বাংলাদেশও এই প্রাণঘাতি থাবার হাত থেকে রক্ষা পায়নি। সরকারি হিসেব মতে বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা ৬২১। আর মৃত্যুর সংখ্যা ৩৪জন। এই অবস্থায় ভয়াবহ সমস্যার সম্মুখীন দেশের নিম্ন আয়ের লোকজন। তবে অসহায়-দুস্থদের সহায়তা সর্বাত্মক চেষ্টা করে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনায় পুরো দেশের বিভিন্ন জেলায় সহায়তা করা হচ্ছে। ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে দূর-দূরান্ত থেকে আলোচনা সাড়ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
আজ, সকালে প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বরিশাল ও খুলনা বিভাগের জেলা সমূহের সঙ্গে মত বিনিময় করেন শেখ হাসিনা। নড়াইল জেলার সাথেও যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী।

নড়াইল জেলা প্রশাসকের কথা বলা শেষে প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্য মাশরাফি বিন মর্তুজার কথা শুনতে চান। বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বলেন, ‘আমি অনেক নবীন, এখানে অনেক সম্মানিত নেতৃবৃন্দ আছেন।’

তিনি আর বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের ইউনিয়নভিত্তিক যে কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেখানে ২২ থেকে ২৩ জন করে প্রতিনিধি রয়েছে। আমরা আশা করছি প্রকৃত অর্থে যাদের ত্রাণ প্রয়োজন তারা পেয়ে যাবেন।’

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশে করে মাশরাফি বলেন, ‘আপনি নড়াইলে এমপি ছিলেন, আছেন এবং থাকবেন। নড়াইলের প্রতি আপনার নজর সবসময় আছে, থাকবে। নড়াইল সদর হাসপাতালের উন্নয়নের জন্য আপনার দফতর থেকে চিঠি এসেছে। এখানে ২৫০ বেডে উন্নীত করা হবে।

তবে নড়াইলে জেলা পর্যায়ে যদি আইসিইউ বেড করার সিদ্ধান্ত নেন আশা করছি করোনাভাইরাসকে আমরা সফলভাবে প্রতিহত করতে পারব।’

এ সময় নিজ নির্বাচনী এলাকায় ডিলারের মাধ্যমে ১০ টাকা কেজি চাল বিতরণ নিয়ে মাশরাফি বলেন, ‘আমরা এখানে ৯০০ কেজি করে চাল পাচ্ছিলাম, সেটা কমিয়ে ৩০০ কেজি আনা হয়েছে, হয়ত বা এটি টেকটিক্যালি সিদ্ধান্ত হতে পারে। কিন্তু আমাদের এখানে অনেক গরিব পরিবার রয়েছে। জনসংখ্যার বিচারে ও দারিদ্র্যতার বিচারে এই বরাদ্দ বাড়ালে আমরা উপকৃত হবো।’

এ ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আসলে ঠিক এ মুহূর্তে টিআর-কাবিখা থেকে শুরু করে সবকিছু একই সময়ে চলে যাচ্ছে। এটি যাতে এক সময়ে না যায়, সামনে রোজা, তাই আমরা একটু সময় নিয়ে দিচ্ছি। কেটে দেওয়া হবে না, দেওয়া হবে, রোজাকে কেন্দ্রে করে ভাগে ভাগে দেওয়া হবে।’

প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য শুনে মাশরাফি বলেন, ‘আপনার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে।’

শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এখানে তুমিও (মাশরাফি) ভাল কাজ করছো, মুক্তিও (কবিরুল হক মুক্তি, অপর সংসদ সদস্য) ভালো কাজ করছে। তোমরা সবাই মিলে ভাল কাজ করো, ভাল থাকো।