যুক্তরাজ্যে করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ছয়শ ৯৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ইংল্যান্ডে ছয়শ ৬৭ জন, ওয়েলসে ১৫ জন, স্কটল্যান্ডে ৯ জন এবং উত্তর আয়ারল্যান্ডে ছয়জনের মৃত্যুর ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে। এনিয়ে দেশটিতে করোনায় প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১ হাজার তিনশ ৪৪ জনে।

এর আগে গতকাল রবিবার যুক্তরাজ্যে করোনায় সাতশ ১০ জনের মৃত্যু হয়। আর শনিবার করোনায় মৃত্যু হয় নয়শ জনের মতো। গত দু’দিন ধরে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে দেশটিতে। তবে মৃত্যুর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। দেশটির স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, দেশটিতে এখন পর্যন্ত ৮৮ হাজার ছয়শ ২১ জনের শরীরে পাওয়া গেছে করোনা।

করোনাভাইরাসের ভয়াল থাবায় বিশ্বের যে ক’টি দেশ সবচেয়ে বেশি জর্জরিত, তার মধ্যে অন্যতম ব্রিটেন। প্রতিদিন শত শত মানুষ মারা যাচ্ছেন করোনায়। এরই মধ্যে দেশটিতে বডি ব্যাগের সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

বিছানার চাদর কিংবা কাপড়ে মুড়ে নিতে হচ্ছে করোনায় মৃতদের লাশ। সেখানকার অবস্থা এতোই নাজুক যে, হাসপাতাল থেকে মরদেহ নিয়ে যাওয়ার জন্য জিপার্ড বডি ব্যাগও মিলছে না। বিছানার চাদর ব্যবহার করতে হচ্ছে বলে জানিয়েছেন অনেক স্বাস্থ্যকর্মী।

ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে করোনার ভয়াবহ প্রকোপ শুরু হয়েছে। স্পেন, ইতালির পর এখন সর্বোচ্চ মৃত্যু যুক্তরাজ্যে। দেশটির প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, আগামী দিনগুলোতে করোনায় মৃত্যুর সংখ্যায় ইউরোপের সব দেশকে ছাড়িয়ে যেতে পারে ব্রিটেন।

প্রাণঘাতী করোনায় নাকাল যুক্তরাজ্যে মৃত্যুর মিছিল দীর্ঘ করতে যেনবা প্রতিযোগিতায় নেমেছে একেকটি দিন। পরের দিন এসে ভেঙে দিচ্ছে আগের দিনে মৃত্যুর সর্বোচ্চ রেকর্ড। দেশটিতে করোনা ভাইরাসের কবলে ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সর্বোচ্চ ৫৬৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগের দিন মৃত্যু হয় ৫৬৩ জনের। গতকাল পর্যন্ত সেটিই ছিল একদিনে সর্বোচ্চ মৃত্যু।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা যায়।

যুক্তরাজ্যের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ১ এপ্রিল করোনা ভাইরাসে দেশটিতে নতুন করে ৫৬৯ জন মারা যান। এতে করে এ ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃতের সংখ্যা ২৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯২১ জনে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে খবরে বলা হয়, স্থানীয় সময় ২ এপ্রিল সকাল ৯টার আগ পর্যন্ত যুক্তরাজ্যে মোট ১ লাখ ৬৩ হাজার ১৯৪ জনের করোনা টেস্ট করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩৩ হাজার ৭১৮ জনের করোনা পজিটিভ এসেছে।