ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগরে কার্ডধারী অসহায় ও গরীব মানুষের কাছে ১০ টাকা কেজি দরে বিক্রির জন্য বরাদ্দকৃত ১৪ বস্তা চাল (৪২০কেজি) আটক করা হয়েছে।

রোববার দুপুরে একটি ব্যাটারীচালিত ইজিবাইক দিয়ে এই চাল নেয়ার সময় উপজেলার বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের দুলালপুর হালিম চৌমুহনী এলাকায় এই চালের বস্তা স্থানীরা আটক করে। পরে চালের বস্তাগুলো উদ্ধার করে থানায় নেয়া হয়।

এলাকাবাসী ও পুলিশ জানায়, রোববার দুপুরে উপজেলার বিষ্ণুপুর রানওয়ে বাজারের ডিলার মোঃ শাহিন মিয়ার দোকান থেকে একটি ব্যাটারিচালিত ইজিবাইক দিয়ে ১৪ বস্তা চাল নেয়ার পথে দুলালপুর হালিম চৌমুহনী এলাকায় স্থানীয়রা ইজিবাইকটি আটক করে।

খবর পেয়ে স্থানীয় দুইজন ইউপি সদস্য ও শিল্পী তাবরীজ সরকার ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে চালককে জিজ্ঞাসা করলে চালক জানায়, ডিলার শাহিন মিয়া এই চাল বিষ্ণপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিনের অফিসে রেখে আসতে বলেছে। পরে তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে বিষয়টি অবহতি করলে প্রশাসনের লোকজন এসে চালগুলো নিয়ে যায়।

এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য বিষ্ণুপুর ইউপি চেয়ারম্যান জামাল উদ্দিনের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।

বিজয়নগর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ নূর আলী বলেন, করোনাভাইরাসের ভয়ে কার্ডধারী ১৪জন এই চাল নিতে অনীহা প্রকাশ করায় সরকারি বিধানমতো ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের প্রত্যয়ন নিয়ে ইউনিয়নের ১৪জন হতদরিদ্র ১৪ বস্তা চাল একটি ইজিবাইক দিয়ে নেয়ার পথে এই চাল আটক হয়। তিনি বলেন, তিনি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করেছেন।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মেহের নিগার বলেন, তিনি খবর পেয়ে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছেন। উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে তদন্ত সাপেক্ষ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার নির্দেশ দিয়েছেন।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোঃ আতিকুর রহমান বলেন, বিষয়টি শুনেছি, তদন্তক্রমে ব্যবস্থা নেয়া হবে।