করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে অসহায়, কর্মহীন, সাময়িক বেকার ও দুস্থ মানুষের কাছে জরুরি ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেয়ার লক্ষ্যে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)দুটি হটলাইন চালু করেছে।

বৃহস্পতিবার থেকে চালু করা হটলাইনগুলো হচ্ছে- ০৯৬০২২২২৩৩৩ এবং ০৯৬০২২২২৩৩৪।

ডিএনসিসি এলাকায় বসবাসরত অসহায় ও দুস্থ যেকোনো ব্যক্তি এই হটলাইন দুইটির যে কোনোটিতে ফোন করে ত্রাণসামগ্রী চাইতে পারবেন। হটলাইন দুটি সার্বক্ষণিক খোলা আছে। হটলাইনে যোগাযোগকারী প্রকৃত দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে যাচাই সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে ডিএনসিসির পক্ষ থেকে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দেয়া হবে।ডিএনসিসির এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ডিএনসিসির সচিব রবীন্দ্রশ্রী বড়ুয়া প্রথম আলোকে বলেন, সারা দেশে দুস্থ মানুষের মধ্যে ত্রাণ কার্যক্রম সারা দেশেই চালু হয়েছে। এর পরও সমাজে পরিচিত কিছু মানুষ একেবারেই কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এখন সামাজিক অবস্থার কারণে তাঁরা কারও কাছে হাত পাততে পারছেন না। কোনো ত্রাণের লাইনেও দাঁড়াতে পারছেন না। এমনকি কাউন্সিলরদের কাছেও

খাবারের জন্য সহযোগিতা চাইতে সংকোচ বোধ করছেন। এমন কিছু মানুষ আমাদের কাছে সহযোগিতা চাইছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ই-মেইলের মাধ্যমে সহযোগিতা চাইছেন। তাঁদের সহযোগিতার জন্য এই হটলাইন নম্বর চালু করেছে ডিএনসিসি।

ডিএনসিসির পক্ষ থেকে বলা হয়, দুস্থদের মধ্যে উত্তর সিটি করপোরেশনের সাধারণ ত্রাণ কার্যক্রমের বাইরেও কিছু মানুষ থেকে যাচ্ছেন বলে খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে। কোনো মানুষ যেন সরকারের খাদ্যনিরাপত্তার বাইরে না থাকে সে জন্য এই নম্বর

দেওয়া হয়েছে। ডিএনসিসি এলাকায় বসবাসরত মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত বা খাদ্যসংকটে অসহায় বোধ করা যেকোনো ব্যক্তি এই হটলাইন দুটির যে কোনোটিতে ফোন করে খাদ্য ও ত্রাণ সামগ্রী চাইতে পারবেন। এ নম্বর দুটি দিনরাত ২৪ ঘণ্টা খোলা

থাকবে। ফোন করার পর এই নম্বর ও ঠিকানাগুলো অঞ্চল পর্যায়ে ভাগ করে দেওয়া হচ্ছে। এই নম্বরে যোগাযোগকারী প্রকৃত অসহায় মানুষের ঠিকানা অনুযায়ী যাচাই সাপেক্ষে দ্রুততম সময়ে খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দেবে ডিএনসিসি।

 

 ত্রাণ আত্মসাৎ করছেন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতারা, ব্যবস্থা কী?

 

করোনাভাইরাস দুর্যোগে বাংলাদেশে লকডাউনের মধ্যে কর্মহীন মানুষ এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে খাদ্য সহায়তা দেয়ার ক্ষেত্রে দুনীতি, অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা এখনও থামানো যায়নি।

হতদরিদ্রদের জন্য ১০টাকা কেজি দরে যে চাল দেয়া হচ্ছে, কিন্তু বেশ কয়েকটি এলাকায় সেই চাল নিয়ে দুর্নীতির দায়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন পর্যায়ের কয়েকজন নেতার জেল জরিমানা হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

অন্যদিকে লকডাউন চলার দ্বিতীয় সপ্তাহের শেষে এসেও সারাদেশে দরিদ্র এবং কর্মহীন মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দেয়ার জন্য তালিকা তৈরির কাজই শেষ হয়নি।

কর্মকর্তারা বলেছেন, দুর্নীতি-অনিয়মের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিয়ে ত্রাণ বিতরণে একটা সমন্বয় করার চেষ্টা তারা করছেন।

দেশের উত্তরাঞ্চলীয় জেলা বগুড়ার দু’টি উপজেলায় দরিদ্র মানুষের কাছে কার্ডের মাধ্যমে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রির ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগে দু’জন ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। তারা দু’জনই দু’টি ইউনিয়নে আওয়ামী লীগের নেতা।

তাদের একজন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার একটি ইউনিয়নে একজন ডিলার হিসাবে চাল আত্মস্যাৎ করার চেষ্টা করেছিলেন – তেমন অভিযোগের প্রাথমিক তদন্তে প্রমাণ পেয়ে প্রশাসন তার জরিমানা করেছে।

আরেকজন বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলার একটি ইউনিয়নে ১০ টাকা কেজির চাল বিতরণে দুর্নীতির দায়ে জেলে গেছেন।